আলিপুরদুয়ার জেলা

বিয়েতে প্রেমিকার অমত। আত্মঘাতী প্রেমিক। গ্রেফতার প্রেমিকা

আলিপুরদুয়ার, ১৩ আগস্টঃ দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্ক। তার পর বিয়ে করতে অস্বীকার করে প্রেমিকা। এরপরই আত্মঘাতী প্রেমিক। প্রেমিকা বিয়ে করতে রাজি না হওয়াতেই, মানসিক অবসাদে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে থানায় অভিযোগ জানায় মৃত যুবকের পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে অভিযুক্ত প্রেমিকা ও তার বাবা-মাকে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে আলিপুরদুয়ারে। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া ভোলারডাবরি এলাকায়।

আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া ভোলারডাবরি গ্রামের যুবক পাপাই মল্লিক(২৬)। গ্রামেরই এক মেয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘ ৮ বছর থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়ের বাড়িতেও নিয়মিত যাতায়াত করত পাপাই। মেয়ের বাড়ির কারও কোন আপত্তিও ছিল না তাতে। কিন্তু সম্প্রতি পাপাই তার মনের মানুষকে বিয়ে করতে চাওয়ায়, বেকে বসে প্রেমিকা। এর পর ১০ আগষ্ট বাড়ি থেকে ১০০ মিটার দূরে একটি গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে পাপাই। ওইদিন রাতেই পাপাই এর প্রেমিকা ও তার বাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানায় পাপাইয়ের পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ সোমবার রাতে অভিযুক্ত প্রেমিকা এবং তার বাবা-মাকে গ্রেফতার করে।

মৃত পাপাইয়ের দাদা রনি মল্লিক জানান, দীর্ঘ আট বছর ধরে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক থাকলেও, সম্প্রতি তুফানগঞ্জে বিয়ে ঠিক হয়ে যায় তার ভাইয়ের প্রেমিকার। পাপাইকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হওয়াতেই তার ভাই আত্মঘাতী হয়েছে বলে অভিযোগ তার। এর আগেও ওই মেয়েটির এক বোনের সঙ্গে সম্পর্ক করে অন্য একজন আত্মঘাতী হয়েছিল বলে দাবী মৃতের দাদার। অভিযোগ, পাপাইয়ের কষ্টার্জিত উপার্জনের বেশীরভাগটাই ওই পরিবার নিয়ে নিতো। ধৃত ৩ জনেরই কঠোর শাস্তি দাবী করেছে মৃত প্রেমিকের পরিবার। আজ (মঙ্গলবার) ধৃত ৩ জনকেই আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে তোলে পুলিশ। এদিন আদালতে যাওয়ার পথে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ধৃত প্রেমিকার বাবা কানাই পন্ডিত। তার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের কারণে নয়, পারিবারিক কারণেই ওই যুবক আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবী তার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *