রাজ্য

জেলায় জেলায় বিজেপির পুলিশ সুপারের দফতর ঘেরাও কর্মসূচী

ওয়েব ডেস্কঃ পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকেই উত্তপ্ত ব্যারাকপুর। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষকে ঘিরে দফায় দফায় অবরোধ, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশ-বিজেপি খন্ডযুদ্ধে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে মাথা ফাটে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংয়ের। প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভে সামিল হয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। জেলায় জেলায় পুলিশ সুপারের দফতর ঘেরাও পথ অবরোধ করে চলে বিক্ষোভ। এদিন পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপারের দফতর ঘেরাও করে বিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন দুপুর দুটো নাগাদ বিজেপি সমর্থকেরা স্লোগান দিতে দিতে দফতরের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ তাদের পথ আটকায়। কিন্তু বিজেপি সমর্থকরা ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গেলে লাঠিলার্জ করে পুলিশ।

পরে আবার জড়ো হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করে। কার্জনগেটের সামনে আবার বিজেপি কর্মীরা জড়ো হলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। অবশ্য কিছুক্ষণ পরেই গ্রেপ্তার হওয়া বিজেপি নেতা কর্মীদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। অন্যদিকে এদিন বোলপুর জাতীয় সড়কের ওড়গ্রামেও রাস্তা অবরোধ করে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। মিনিট কুড়ি অবরোধ চলার পর ভাতার থানার পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে হাওড়াতেও পুলিশ কমিশনারের অফিস ঘেরাও অভিযানে নামে বিজেপি। কয়েকশো কর্মী সমর্থক বার্ন স্যান্ডার্ড মোড় হয়ে হাওড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের দিকে এগোনোর চেষ্টা করে। যদিও পুলিশ বাধা দেয়। সেখানেই দুপক্ষের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়। প্রথমে ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন বিজেপি সমর্থকেরা। যদিও পরে তারা রাস্তায় বসে পড়েন। উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা সদর বারাসতেও জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামিল হয় বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা। মিছিল করে পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে গিয়ে ধারর্নায় বসে পড়েন কর্মীরা। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন তারা। এরপর স্লোগান দিয়ে পুলিশের উপর ধীক্কার জানাতে থাকেন তারা। পরে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন বিজেপির কর্মীরা।

অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। এই কর্মসূচিকে ঘিরে জোরদার করা হয়েছেলো পুলিশি নিরাপত্তা। বিরাট পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছিল মহিলা পুলিশ বাহিনীও । এই বিক্ষোভের জেরে প্রায় ঘন্টা খানেক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে কুলপি রোড । তবে এদিন শান্তিপূর্ণ ভাবেই কর্মসূচি পালন করে দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মী সমর্থকরা । এর পর পুলিশ সুপার রশিদ মুনির খানের কাছে ডেপুটেশনও জমা দেওয়া হয়। নদিয়ার কৃষ্ণনগরে পুলিশ সুপার অফিসেও ঘেরাও কর্মসূচী পালন করে জেলার বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *