জেলা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান

বনসৃজন খাতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্যকে বঞ্চনার অভিযোগ, মানতে নারাজ বাবুল

আসানসোলঃ বাবুল সুপ্রিয় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও বনসৃজনে বাংলার সঙ্গে বঞ্চনার অভিযোগ। সিএএমপিএ (কমপেন্সেটরি অ্যাফরেস্ট্রেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যানিং অথরিটি) ফান্ড থেকে বরাদ্দ ২৩৬ কোটি থেকে রাজ্যকে অর্থ অনুমোদনের ক্ষেত্রে চরম বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের বিরুদ্ধে। যে মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী খোদ আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ ও জয়বায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক দেশের ২৭ রাজ্যের মধ্যে এই ফান্ড থেকে প্রায় সাড়ে ৪৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে। ২৯ অগস্ট দিল্লিতে বিভিন্ন রাজ্যের বনমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে মন্ত্রকের পূর্ণমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর ও প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এই অর্থ অনুমোদন করেন।

যেখানে ওড়িশা ৫৯৩৩.৯৮ কোটি, ছত্তিশগড় ৫৭৯১.৭০ কোটি, মধ্যপ্রদেশ ৫১৯৬.৬৯ কোটি, এমনকী পার্শ্ববর্তী ছোট রাজ্য ঝাড়খণ্ডও ৪১৫৮.০২কোটি টাকা পেয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের কপালে জুটেছে মাত্র ২৩৬.৪৮ কোটি টাকা।। মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানার জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ হয়েছে। দেশের ১৬টি রাজ্য এক হাজার কোটি টাকার বেশি করে বরাদ্দ পেয়েছে। অথচ বাংলার ক্ষেত্রে তা ২৫০ কোটির গণ্ডিও টাকা টপকায়নি। এই অর্থের বরাদ্দের নিরিখে ২৭টি রাজ্যের মধ্যে বাংলার স্থান ২২তম। সিকিম, মণিপুরের মতো ছোট রাজ্যও বাংলার থেকে বেশি অর্থ পেয়েছে। বাংলা বঞ্চিত হলেও দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি ফলাও করে সোশ্যাল সাইটে প্রচার করেছেন বাবুল সুপ্রিয়।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপিকে ঢালাও ভোট দিয়েছেন। বাংলার ১৮টি আসন তারা জয়লাভ করেছে। কিন্তু তারপরেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ অব্যাহত। যার নবতম সংযোজন সিএএমপিএ ফান্ডে রাজ্যকে কম অর্থ বরাদ্দ। যদিও এই বঞ্চনা প্রসঙ্গে বাবুল জানান দিল্লিতে বিভিন্ন রাজ্যের বনমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকলেও উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যের বনমন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বাবুল। তাঁর দাবি উনি মিটিং এও যাবেন না অথচ অভিযোগ জানাবেন বঞ্চিত হচ্ছেন তা তো হতে পারে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জন্য কি প্রয়োজন সেটা জানানো হলে রাজ্যের জন্য তিনি পক্ষপাতিত্ব করতেও রাজি বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বনপ্রতিমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *