জেলা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান

তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের দাদাগিরিতে টোলপ্লাজায় লোকসানের অভিযোগ

দুর্গাপুরঃ তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের দাদাগিরির জেরে বিপাকে টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষ। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েও নগরনিগমের তালিকায় ব্ল্যাক লিস্ট হওয়ার ভয়েই লোকসান সত্ত্বেও টোলপ্লাজা চালিয়ে যেতে তারা বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের। দুর্গাপুরের অঙ্গদপুরে হানিম্যান সরনীতে টোলপ্লাজা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিক্ষোভের জেরে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের। প্রসঙ্গত সোমবার বেতন বৃদ্ধি তথা নূন্যতম বেতনের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হয় টোল প্লাজার কর্মীরা। তাদের অভিযোগ কাজে যোগ দেওয়ার সময় যে বেতন পেতেন সেই বেতই দিয়ে চলেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে নূন্যতম বেতন ৩০৭ টাকা হলেও তা দিতে রাজি নয় তারা। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল শ্রমিক নেতা প্রভাত চ্যাটার্জী ও অশোক দত্তরা কর্তৃপক্ষকে ডেকে নূন্যতম বেতন দেওয়ার কথা জানালেও সে বিষয়ে কর্ণপাত করেনি টোলপ্লাজার দায়িত্বে থাকা এজেন্সি।  

এদিকে শ্রমিকদের এই অভিোগের ভিত্তিতে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের রীতিমত দাদাগিরির অভিযোগ তুললেন টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি স্থানীয় নেতৃত্ব জোর করে টোলের কর্মীসংখ্যা বাড়িয়েছে। একটি টোল সামলাতে দিনে ৩ শিফটে যেখানে  মোট ৬ জন কর্মী যেখানে যথেষ্ট , সেখানে প্রায় ১৬জন কর্মী জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তৃণমূল শ্রমিক নেতৃত্বের চাপে দিনে গড়ে প্রায় ১৫০টি গাড়ি ছেড়ে দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিপুল লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের। যদিও জোর করে লোক ঢোকানোর কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন স্থানীয় শ্রমিক নেতা অশোক দত্ত। বরং পাল্টা তিনি প্রশ্ন তোলেন টোল চালানোর প্রায় আড়াইবছর পর লোকসানের কথা কেন তুলছে কর্তৃপক্ষ? গাড়ি ছাড়ের অভিযোগটিও ভিত্তিহীন বলে দাবি এই শ্রমিক নেতার।

অন্যদিকে পুরসভার মেয়র দিলীপ অগস্তি এজেন্সির পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তাঁর দাবি মালিক পক্ষের অনুপস্থিতিতে ওখানে চুরি করছিল কর্মচারীরা। সেই চুরি ধরা পড়ে যেতেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছে কর্মীরা। মেয়রের দাবি টোলট্যাক্স আদায় না হলে আখেরে পুরসভারই ক্ষতি। তাই তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে টোল চালাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেই বিষয়টি দেখতে। আগামীদিনে যদি টোল কর্তৃপক্ষ মজুরি না বাড়ায় তাহলে টোল বন্ধ করে অনশনের হুমকি দিয়েছে কর্মীদের। অন্যদিকে ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকার টেন্ডার ভরেও শুধুমাত্র অতিরিক্ত কর্মী বহনের জন্য অতিরিক্ত ব্যায়ভার বহন করে লোকসানের মুখে পড়া সংস্থাও চাইছে সমস্যার স্থায়ী সমাধান ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *