জেলা বাঁকুড়া

গ্রামীণ হাসপাতালের শৌচাগারের অস্বাস্থ্যকর ছবি

বাঁকুড়াঃ  অসুস্থ মানুষ সুস্থ হতে হাসপাতালে আসেন । কিন্তু সেটা না হয়ে যদি উল্টোটা হয় তাহলে? তাহলে তো সেই হাসপাতালে যেতে স্বাভাবিকভাবেই ভয় পাবেন রোগী ও তার পরিবার । বাঁকুড়ার কোতুলপুর গ্রামীণ হাসপাতালে এমন এক উল্টো ঘটনার চিত্রই ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায় । রোগীর পরিবারের অভিযোগ হাসপাতালে সুস্থ হতে এসে আরও অসুস্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা । তার সৌজন্যে অবশ্যই অপরিস্কার, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার ।

স্থানীয় গোগড়া গ্রামের এই হাসপাতালে প্রতিদিন কোতুলপুর ব্লক এলাকার অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন । বহির্বিভাগ ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা অনেক সময় হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে যায় । হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের আত্মীয়দের অভিযোগ,  এখানকার শৌচাগার গুলি নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়না । রোগীর এক আত্মীয়া তনু পাত্র বলেন,  আমাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই যে রোগীকে বাইরের কোন হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করবো । বাধ্য হয়েই কাছের এই হাসপাতালে এসেছি । এখানকার শৌচালয় গুলির যা অবস্থা রোগীকে সুস্থ করতে নিয়ে এসে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছি । একই অভিযোগ সুকুমার সিং নামে এক ব্যক্তির । তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে তো রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়বে । যতো দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব শৌচালয় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা ও তা নিয়মিত রাখার দাবী জানান তিনি ।

এবিষয়ে কোতুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিতাই নন্দী বলেন, বিষয়টি তার নজরেও এসেছে । এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএমওএইচের সাথে কথা হয়েছে । যতো দ্রুততার সঙ্গে সম্ভব হাসপাতালের শৌচালয় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হবে বলে তিনি জানান । কিন্তু যেখানে রাজ্য সরকার হাসপাতা্লের পরিকাঠামোকে সাজাতে একের পর এক পরিকল্পনা নিয়েছে সেখানে গ্রামীণ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার মান এরকম করুন হওয়ায় রোগ   সারাতে এসে আরও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে । বেড়েছে সংক্রমণের ভয় । আর যাদের ভরসা এই সরকারি হাসপাতালগুলি তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে । কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রোগীদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । তবে প্রশ্ন উঠছে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার করলেও সাধারণ মানুষ কি শৌচালয় ব্যবহার করার পর তা নিজের মনে করে পরিষ্কার রাখতে পারবেন? কারণ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তো শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষের নয় আম জনতারও ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *