উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা

বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে প্রথম সফল মেরুদন্ডের অস্ত্রপ্রচার

অতনু মন্ডল,দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ এক সময় রাজ্যের মহকুমা হাসপাতাল গুলির করুন দশা থাকলে রাজনৈতিক পালা বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে মহকুমা হাসপাতাল গুলির চেহারা ও পরিষেবার যে উন্নতি হয়েছে তা আরও একবার প্রমান করে দিল মঙ্গলবারের ঘটনা । রাজ্যের মহকুমা হাসপাতাল গুলির মধ্যে প্রথম সাফল্যের সাথে মেরুদন্ড অপারেশন সম্ভব হলো বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে । মঙ্গলবার বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অর্থপেডিক সার্জেন ডঃ শান্তনু মন্ডলের একক দক্ষতায় মাত্র দেড় ঘন্টার অপারেশানে এই জটিল কাজ সম্ভব হল । আগে এই অপারেশানের জন্য জেলার সুন্দরবনের ক্যানিং, বাসন্তি, কুলতলি থেকে শুরু করে বারুইপুর, সোনারপুর,  ভাঙর এলাকার বাসিন্দাদের ছুটতে হত কলকাতার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে । কিন্তু সেখানে সি আর্ম মেশিন খারাপ থাকায় গত কয়েক মাস আগে থেকি বন্ধ হয়ে যায় এই অপারেশন । প্রসঙ্গত, অর্থপেডিক সার্জেন ডঃ শান্তুনু মন্ডলের দক্ষতায় বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এর আগেও ২ টি হাঁটু প্রতিস্থাপন ও ৫ টি নিতম্ব প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়েছিল ।

পরিবার সুত্রে খবর, সুন্দরবনের কুলতলির গোপালগঞ্জের বাসিন্দা বছর ২৭ এর রবিউল লস্কর পেশায় দর্জি । বাড়ির কাছে ক্ষিরিস গাছের ডাল কাটতে গিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে যায় । বাড়ির লোকজন তাকে গত ৩১ অগাস্ট প্রথমে পদ্মেরহাট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও পরে বারুইপুর সুপার স্পেসালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসে । যে অবস্তায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল অপারেশন না হলে সোজা হয়ে দাঁড়ানো তার পক্ষে অসম্ভব ছিল । সেখানেই অর্থপেডিক সার্জেন শান্তুনু মন্ডলের তত্ত্বাবধানে ছিল ওই রুগী । ডাঃ শান্তুনু মন্ডল জানিয়ে দিয়েছিলেন অপারেশান না করলে ঝুঁকে থাকতে থাকতে তার প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে । কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশান করানোর মত পরিবারের সামর্থ্য ছিল না । তাই বেশী দেরি না করে মঙ্গলবার তার অপারেশান করবেন বলে ঠিক করেন ডাঃ শান্তুনু মন্ডল । হাসপাতাল সুত্রে খবর,  অপারেশনে মেরুদণ্ডের ভাঙা অংশকে আগের অবস্তায় ফিরিয়ে আনার জন্য দুটি রড লাগানোর প্রয়োজন আছে বলে জানান চিকিৎসক ।

‘স্বাস্থ্যসাথি’ কার্ড না থাকায় সেই মত অপারেশানের যন্ত্রপাতি ১৮ হাজার টাকায় কিনে দিয়েছিলেন রবিউল লস্করের পরিবার । এরপরই মঙ্গলবার মেরুদন্ডের অপারেশান করা হয় রবিউলের । এই প্রসঙ্গে রোগীর পরিবার জানায়, চিকিৎসকের দক্ষতায় জীবন ফিরে পেল রবিউল লস্কর । বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এই চিকিৎসকের কাছে না আনলে জীবন ফিরে পেত না আমাদের ছেলে বলেছেন পরিবারের সদস্যরা । এখন সুস্থ আছে বলে জানায় পরিবার । হাসপাতালের সুপার ডঃ অচিন্ত্য গায়েন বলেন, বারুইপুরে প্রথম মহকুমা হাসপাতালের এই কঠিন অপারেশান হল । ডঃ শান্তুনু মন্ডল এর আগেও দক্ষতার সাথে অন্য অপারেশান করেছেন । খুব ভালো ভাবে হয়েছে । আজ আমাদের গর্বের দিন বলে মনে করছেন তিনি । চিকিৎসকের দক্ষতায় নতুন জীবন পেয়ে খুশি রোগী সহ রোগীর পরিবার । একই ভাবে এদিন একক দক্ষতায় ঝুঁকি নিয়েও এই অপারেশন সাফল্যের সাথে করতে পেরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি শান্তনু বাবুও । কলকাতা বাদে এরকম একটি বড় অপারেশন জেলার হাসপাতালে সাফল্যের সাথে হওয়ায় স্বভাবতই খুশি জেলার মানুষজনও ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *