উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা

পাঁচ বন্ধুর তৎপরতায় প্রাণ ফিরে পেল ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া যুবক

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, উত্তর ২৪ পরগনাঃ    ‘আঠেরো বছর বয়সেই অহরহ বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি’। ‘আঠেরো বছর বয়সে নেই ভয়, পদাঘাতে চায় ভাঙ্গতে পাথর বাধা’ কবি আগেই বলে গিয়েছিলেন। পাঁচ বন্ধু যাদের প্রত্যেকের বয়স আঠেরো থেকে বাইশের মধ্যে। কেউ বা স্কুল ছাত্র কেউ বারো ক্লাস পাস করে করে চাকরির চেষ্টা করছে কেউ আবার পড়াশোনা শেষ করে কোন কাজের সাথে যুক্ত। সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে তারা দেখিয়ে দিল ইচ্ছে থাকলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। শনিবার সন্ধ্যায়  উত্তর ২৪ পরগনার শিয়ালদহ বনগাঁ রেল শাখায় মছলন্দপুর স্টেশন থেকে শিয়ালদহের দিকে যাচ্ছিল বনগাঁ লোকাল। মছলন্দপুর সাদপুর এক নম্বর রেল গেটের কাছে ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ ট্রেন থেকে পড়ে যায় এক যুবক। রক্তাক্ত ওই যুবক তখন রেললাইনের পাশে যন্ত্রনায় ছটফট করছে। আর তাঁকে ঘিরে দেখতে দাঁড়িয়ে গেছে বহু মানুষ কিন্তু উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কেউ নেই। মাঝে মাঝেই গোঙ্গানীর আওয়াজে ভেসে আসে একটু জল খাবার প্রত্যশা,  কিন্তু আইনি জটিলতা এবং প্রশাসনের ভয়ে কেউ ধরতে চাইছে না আহত যুবককে।

সেই সময় ওই জায়গা দিয়েই পার হচ্ছিল স্থানীয় সাতপুরের বাসিন্দা দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র নিলয় বিশ্বাস । ঘটনাস্থলে গিয়ে সে দেখতে পায় জীবিত আছেন যুবক। সাথে সাথে সাতপাঁচ না ভেবেই আরো চার বন্ধু রাহুল বিশ্বাস,স্বজল ব্যপারী, তুষার মন্ডল এবং নান্টু চৌধুরীকে ডেকে পাঁচ বন্ধু মিলে স্থানীয় ভ্যান ডেকে নিজেদের খরচায় মছলন্দপুর বাউগাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় নিজেদের পকেট থেকে আরও টাকা খরচ করে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা। হাবড়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে সাথে সাথে তাকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পাঁচ বন্ধু জানায় আহতের পকেটে মোবাইল থেকে তার বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। আহত যুবকের নাম ইসলাম বিশ্বাস (৩৪)। বাড়ি বাদুরিয়া থানার চাতরা চন্ডিপুর এলাকায়। আহত যুবককে পাঁচ উদ্ধারকারি জানান কোন ভাবে চলন্ত ট্রেন থেকে লাইনের পাশে পড়ে গিয়েছিল সে। আইনের জটিলতার কথা ভুলে গিয়ে মানুষ হিসাবে মানুষের পাশে দাড়ানোটাই কর্তব্য মনে করে তারা আহত যুবককে উদ্ধার করেছে। আহতের বাবা মালেক বিশ্বাস পাঁচ উদ্ধারকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাঁচ বন্ধু যদি উদ্যোগ নিয়ে ওই যুবককে উদ্ধার না করতো তাহলে হয়তো যুবককে প্রানে বাঁচানো সম্ভব হতো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *