উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা

আয়লার স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে বুলবুল

উত্তর ২৪ পরগনাঃ বসিহাট মহাকুমার সুন্দরবন, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, বসিরহাট সহ বুলবুলের তাণ্ডবে ইতিমধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত প্রায় ১৫ জন। যদিও আহতের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান উস্কে দিচ্ছে ২০০৯ এর আয়লার স্মৃতি। দিনের আলো পরিষ্কার হতেই সুন্দরবন হিঙ্গলগঞ্জ সন্দেশখালি বসিরহাট হাসনাবাদ সহ বেশ কয়েকটি ব্লকের ক্ষয়ক্ষতির ছবিটা পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। বহু গাছপালা কাঁচা বাড়ি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

ইতিমধ্যে বসিহাট মহাকুমার প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ১৪৯ টা ত্রাণ শিবিরের রাখা হয়েছে। তাদের পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে ত্রাণ শিবিরগুলিতে। সুন্দরবন লাগোয়া উপকূলবর্তী এলাকায় বিপর্যয় মোকাবেলা দলগুলি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে। যেসব অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত আহতরা রয়েছে তাদের দুর্গত জায়গা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসাকেন্দ্র নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। অন্যদিকে সেচ দপ্তর ও বিদ্যুৎ দপ্তর এর লোকজন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া এলাকাগুলোতে কাজ শুরু করেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে যেসব নদীর বাধে ফাটল দেখা গিয়েছে সেগুলো দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করেছে সেচ দপ্তরের লোকজন।

অন্যদিকে বুলবুল কেড়ে নিয়েছে একাধিক প্রাণ। বসিরহাটে গোকনা গ্রামে বছর চল্লিশের গৃহবধূ রেবা বিশ্বাস শিরীষ গাছ চাপা পড়ে মারা যান। অন্যদিকে তার স্বামী রঞ্জন বিশ্বাস সহ দুই নাতি আহত হয়েছেন। পাশের গ্রাম মাটনিয়ায় বছর ৪৯-এর মইদুল গাজীর মৃত্যু হয় বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে। হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের মালেকানঘুমটিতে বছর ৬৫-র বৃদ্ধা সুচিত্রা মন্ডলের মৃত্যু হয়েছে ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে । আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। সন্দেশখালি থানার দাড়ির জঙ্গলে বছর ৫৬ বিদেশি সরদারও গাছ চাপা পড়ে মারা যান। একই ব্লকে মথুরা বাজারে বছর ৫০-এর আমিনা বেড়া ঘরের দেয়াল চাপ পড়ে মারা যান। এখনও পর্যন্ত বসিরহাট মহাকুমায় তিনজন মহিলা দুজন পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ । সব মিলিয়ে বুলবুলের এই তাণ্ডব আরও একবার আয়লার স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে বলে মনে করছে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *