জেলা মুর্শিদাবাদ

জিয়াগঞ্জের তাঁতি পাড়ায় বিদেশি পর্যটকদল, চলল বেচাকেনা

মুর্শিদাবাদঃ শীত পড়তেই বিদেশি পর্যটকদের দল ভিড় জমাল জিয়াগঞ্জের তাঁতি পাড়ায়। রবিবার সকালে দলটি তাঁতি পাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি তাঁতিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁটিয়ে দেখল তাঁতে রকমারি সিল্ক শাড়ি বোনার কৌশল। নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য কিনে নিয়ে গেল বেশকিছু ঐতিহ্যবাহী বালুচরি, মুর্শিদাবাদ সিল্ক এবং মসলিন শাড়ি। ৩২ সদস্যের বিদেশি পর্যটকদের দলটিতে আমেরিকা, কানাডা এবং জার্মানির পুরুষ এবং মহিলা নাগরিকরা ছিলেন। বিদেশি পর্যটকের দলটি শনিবার রাতে জলপথে কলকাতা থেকে নবাবী তালুক মুর্শিদাবাদ শহরে এসে পৌঁছায়। মুর্শিদাবাদ শহরে রাত কাটিয়ে রবিবার সকাল ৯ টা নাগাদ জিয়াগঞ্জের তাঁতি পাড়ায় পৌঁছায় বিদেশি পর্যটকের দলটি। শীত পড়তেই বিদেশি পর্যটক আসতে শুরু করায় খুশীর হাওয়া জিয়াগঞ্জ তাঁতি পাড়ায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জগৎ বিখ্যাত বালুচরী শাড়ি জিয়াগঞ্জের গঙ্গাতীরের বালুচর গ্রামেই প্রথম উৎপাদিত হয়ে বিখ্যাত হয়েছিল ‘বালুচরী’ শাড়ি নামে। বালুচরী শাড়ির গায়ে সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম শুধু সে যুগের মানুষ আর নবাব রাজাদেরই নয়, আজকের শিল্প বোদ্ধাদের সমান অবাক করে। বিভিন্ন গ্রন্থ ভিত্তিক তথ্য থেকে জানা যায়, মুর্শিদাবাদ জেলার বর্তমান জিয়াগঞ্জ শহরের নাম ছিল বালুচর। এই শহরের আশে পাশে ছিল বেলেপুকুর, রণসাগর, বালিগ্রাম, বাগডহর, দুবরোখালি, আমুইপাড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম। এই সকল গ্রামে ১৫০০-২০০০ তাঁতশিল্পী ও তাদের পরিবার বাস করত। এখানকার তাঁত শিল্পীরাই প্রথম বালুচরী শাড়ির উৎপাদন শুরু করে। তবে বালুচরী শাড়িকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছিলেন দুবরাজ দাস নামে এক তাঁত শিল্পী। তার অনন্য সাধারন উদ্ভাবন ও শিল্প নৈপুণ্য বাংলার বস্ত্র বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। দুবরাজ দাস দেশী তাঁতে এক জটিলতম প্রণালী উদ্ভাবন করেন। যা দিয়ে শুধু কোণা বা আঁচলা নয়, সমগ্র শাড়িতেই যে কোন ধরনের বুটিদার ফুলওয়ালা ও কল্কা নক্সা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হন। নক্সার এই আভিজাত্য তাকে বিশ্বখ্যাতি এনে দেয়। বলা হয় দুবরাজ দাসের দেশী তাঁতে বোনা নক্সাদার শাড়িই ‘বালুচরী শাড়ি’ নামে খ্যাত।

এইদিন সকাল ৯ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা তাঁতি পাড়ার ঘুরে দেখে দলটি। এরপরেই স্থানীয় ব্যবসায়ী রঞ্জন শোশার বাড়িতে যায় বিদেশি পর্যটকের দলটি। তাঁতি পাড়ার একাধিক দোকানে ঘুরে ঘুরে বালুচরি, মুর্শিদাবাদ সিল্ক, মসলিন সহ বেশ কিছু শাড়ি এবং কুর্তি এবং চুরিদার কেনাকাটা করে। দলটিতে সস্ত্রীক ছিলেন আমেরিকার নাগরিক মিস্টার কেইন। মিসেস কেইন নিজের এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য বালুচরি এবং মুর্শিদাবাদ শাড়ি কেনেন। তাঁতি পাড়ার ব্যবসায়ী রঞ্জন শোশা বলেন, মাস খানেক আগে বিদেশি পর্যটকদের একটি দল তাঁতি পাড়ায় এসেছিল এবং ঘুরে দেখার পরে তাঁতিদের থেকে বেশ কয়েকটি শাড়িও কিনে নিয়ে যায়। তবে আজকের দলটিতে অনেক বেশী সদস্য ছিল। দলটি বালুচরি, মসলিন এবং মুর্শিদাবাদ সিল্ক কিনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *