দেশ

বাঙালি পর্যটকদের দিকেই তাকিয়ে আছে শুনশান পুরী।

রাজীব মুখার্জী, ওড়িশা।

বাঙালি মানেই একটু ছুটি পেলেই টুক করে ঘুরে আসা পুরী। তাই কথায় বলে হুজুকে বাঙালি। হুজুক উঠলেই হাতের কাছে সমুদ্র বলতে পুরীকেই পছন্দ সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির। কোলকাতা থেকে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে ওড়িশার বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র এবং ধর্মীয়স্থান পুরী।

আপামর বাঙালির কাছে সারাবছরই বাঙালি পর্যটক হিসাবে একটা বিশেষ ধরনের অগ্রাধিকার রয়েছে পুরীর। সারাবছরই এই বাংলা থেকে প্রচুর পর্যটক পুরী পরিদর্শন করেন এবং তার পাশাপাশি কয়েকদিনের ছুটি কাটিয়ে ফেরেন। পুরীর সমুদ্র সৈকত রীতিমতো পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় জায়গা বলেই পরিচিত। পাশাপাশি ওখানকার বহু মানুষের কর্মসংস্থান এই বাঙালি পর্যটকদের উপরে নির্ভরশীল। তাই লকডাউন হওয়ার পর থেকে সেভাবে পর্যটক আসেনি তাই সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল এই পর্যটন কেন্দ্র।

একদিকে ট্রেন বন্ধ থাকার দরুন অপরদিকে মন্দির বন্ধ থাকার জন্য পর্যটকদের পুরী যাওয়ার অনুমতি ছিলোনা। তাই, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সংকটে। শুধু তাই নয় ওখানকার স্থানীয় মানুষদের রুজিরুটি সম্পূর্ণ বন্ধ। তাই আগস্ট মাসে ওড়িশা সরকারের তরফ থেকে ওই পর্যটনস্থল কে কিছুটা সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিছুটা হলেও স্বস্তি পুরীর হোটেল ব্যবসায়ীদের।

সরকারের তরফে জারি হয়েছে কিছু বিধি নিষেধ। ৩০ শতাংশের বেশি কোন পর্যটক কে রাখা যাবে না হোটেলে। আর যারা আছেন তারা তিন দিনের বেশি হোটেলে থাকতে পারবে না বলে নির্দেশ ওড়িশা প্রশাসনের। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিধি সম্বন্ধিত কিছু নির্দেশিকা। তবে এখনো পর্যন্ত সেইভাবে পর্যটক আসেনি। যদিও দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে চিত্রটা বদলাতে পারে বলেই আশা রাখছেন এই হোটেল ব্যবসায়ীরা। তার দিকে তাকিয়ে আছে ওখানকার সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল ব্যবসায়ীরা। তবে এখানকার হোটেল মালিকদের তরফ থেকে পর্যটকদের আসার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।

তাদের দাবি পর্যটকেরা চাইলে আসতে পারেন। এখনো পর্যন্ত পর্যটনের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ পুরী বলেই দাবি তাদের। তবে কবে সবকিছু চালু হয়ে আগের মতো, পর্যটকেরা আসবে আবার। সেই দিকেই তাকিয়ে আশার দিন গুনছেন হোটেল মালিক থেকে এখানকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *