রাজ্য শহর

‘তদন্তে নামলো সিবিআই, বিপাকে পড়তে পারেন বিভিন্ন জেলার বেশকিছু সাংবাদিক এবং পুলিশ”

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:

  • কয়লা কাণ্ডের তদন্তে নামলো সিবিআই।
  • কলকাতা, বর্ধমান, রানিগঞ্জ, দুর্গাপুর, আসানসোল সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার, বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালালো সি বি আই।
  • তল্লাশি চালানো হয়েছে মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গের  মালদাতেও।

জানা গেছে, কলকাতা  নিজাম প্যালেস থেকে সিবিআই আধিকারিকদের মোট ২২টি দল তদন্তে বেরিয়েছিল। সিবিআই আধিকারিকরাই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে কয়লা পাচার কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার পুরুলিয়ার ভামুড়িয়া গ্রামের বাড়ি এবং অফিস।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে কেদ্রীয় আয়কর দপ্তর কয়লা পাচার কাণ্ডে তদন্ত শুরু করে| আয়কর দপ্তরের পর এবার তদন্তে নামলো সিবিআই। আয়কর দপ্তরের তদন্তে কী কী তথ্য উঠে এসেছে, কী কী নথি প্রমাণ আয়করের হাতে এসেছে, তা বিস্তারিত সিবিআই কে জানিয়ে দিয়েছে আয়কর দপ্তর।

  • এক কথায় সবমিলিয়ে বলা যেতে পারে, কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে এবার কোমর বেঁধে নেমে পড়লো কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাও সিবিআই।
  • যদিও কয়লা পাচার কাণ্ডে অন্যতম মূল পান্ডা লালা এখনও বেপাত্তা।

এদিকে ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে গরু পাচার কাণ্ডে সিবিআই-এর হাতে ধৃত এনামুলের সঙ্গে অনুপ মাঝির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথা। শুধু এই নয়, কয়লা পাচার কাণ্ডে তদন্তে নেমে যে তথ্য আয়কর দপ্তরের অফিসারদের হাতে এসেছে তা হলো,  কয়েকটি জেলার বেশ কিছু সাংবাদিকদের নাম। সুত্রে জানা গেছে অবৈধ কয়লা কারবারের মূল পান্ডা অনুপ মাঝি ওরফে ‘লালা’-র বাড়ি ও অফিস থেকে উদ্ধার কয়লা কারবারের এক্সেল সিট থেকে পাওয়া গেছে মাসোয়ারা নেওয়া বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকদের নাম। সঙ্গে পাওয়া গেছে শহর কলকাতারও বেশ কিছু নামি সাংবাদিকদের নাম। এই এক্সেল সিটে উল্লেখ রয়েছে কারা কত মাসোয়ারা নিত এবং কার মারফৎ এই টাকা বিলি হত। আয়কর দফতরের হানায় পাওয়া এই এক্সেল সিট এখন সিবিআই-এর হাতে। সিবিআই সুত্রে জানা গেছে তদন্তের স্বার্থে এই সাংবাদিকদের সঙ্গে এদের মাসোয়ারা পৌঁছানোর কাজে যারা যুক্ত ছিল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সিবিআই।

আয়কর অফিসারেরা মনে করছেন, এই সাংবাদিকদের মদতেই আন্তরাজ্য কয়লা পাচার সহজ ভাবে হচ্ছে| সেইঅনুযায়ী তারা সিবিআই এর কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

এইসব সাংবাদিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেই  বিভিন্ন জেলার জেলা শাসক ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরে চিঠি পাঠাচ্ছে সি বি আই।

এখন ঘটনা হলো, সিবিআই তদন্তে সমস্ত সাংবাদিকদের নাম প্রকাশ্যে উঠে আসবে| সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মিডিয়াতে কর্মরত সাংবাদিকদের চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এটা বলাই বাহুল্য|

অপরদিকে দুর্গাপুর আসানসোলের একশ্রেণী পুলিশ যারা মোটা টাকা নিয়ে কয়লা পাচারে সহযোগিতা করেছে, কেউ কেউ আবার সরাসরি কয়লা পাচারে সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে গোয়েন্দারা| ইতিমধ্যে বহু পুলিশ অফিসার অন্য জেলায় ট্রান্সফার নিয়ে চলে যেতে শুরু করেছেন এবং কেউ কেউ ট্রান্সফার নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন| তারা হয়তো মনে করছেন, এই জেলা থেকে চলে যেতে পারলেই তারা সিবিআইয়ের হাত থেকে বেঁচে যাবেন| সূত্রের খবর, যেহেতু তারা সরকারি চাকরি করেন তাই তাদের  প্রত্যেককেই নোটিস ইস্যু করবে সিবিআই|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *