রাজ্য

ব্রিগেড গেলো টুম্পা!

প্রতিনিধি, দুর্গাপুর ও কোলকাতা

বাসের ছাদে মাইক লাগিয়ে। বাংলা প্যারোডি গান “টুম্পা” বাজিয়ে, আর তার তালে বাসের ছাদে নাচ করতে করতে র‌ওনা দিলো বাম-কংরেস কর্মী সমর্থকরা ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে। রবিবার সকালে বাম-কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের এমন‌ই ছবি ধরা পরল দুর্গাপুরের মুচিপাড়া মোড়ে। বাম-কংগ্রেস জোটের ডাকা ব্রিগেডের জনসভায় যোগ দিতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০০বাস ছাড়লো কলকাতার উদ্দেশ্যে। রবিবার সকালে দুর্গাপুরে বামফ্রন্টের দলীয় কর্মীদের উচ্ছাস, উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন দুর্গাপুরের ডিভিসি মোড় থেকে বাম-কংগ্রেস সমর্থকদের প্রায় ১০০টির উপর বাস ছাড়ে ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে। একদশকের তৃণমূলী অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোটের সরকার ক্ষমতায় আনাটা হচ্ছে এই জনসভার মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেন, সিপিআইএম পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটি সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার।

মঞ্চে ফাটল দেখা গেল কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর মধ্যে।  

মঞ্চে বিমান বসু বলেন এমন সমাবেশ অতীতে দেখা যায়নি। একধাপ এগিয়ে সূর্যকান্ত মিশ্রকে বলতে দেখা যায় বিজেপি এবং তৃণমূল, তারা ভাগাভাগির রাজনীতি করছে। বন্ধ চা- বাগান খোলার দাবিতে সোচ্চার হতে দেখা যায় আরএসপি নেতা মনোজ ভট্টাচার্যকে। বামফ্রন্টের নেতারা নিজেদের ভাষণ যেখানে শেষ করলেন সেখান থেকেই শুরু করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী তৃণমূল এবং বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে। এদিনের ব্রিগেড সমাবেশকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এত বড় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। বহুদিনের ইচ্ছে আজ পূরণ হল এত বড় সমাবেশে বক্তব্য রাখতে পেরে। এদিন তৃণমূল এবং বিজেপিকে তুলোধনা করেন তিনি। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্র মোদির ডিএনএ একই রকম। তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশ্যে হুঁকারের সুরে বলেন, সংযুক্ত মোর্চার ক্ষমতা দেখে যান। মোদি সব সময় বলেন কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়ার কথা। আর দিদি বলেন বিরোধীশূন্য বাংলার কথা। দুজনেই এক কথা বলেন। এদের হটাতে হবে। আগামীদিনে বাংলায় সাম্প্রদায়িক শক্তি থাকবে না। শুধু সংযুক্ত মোর্চা থাকবে। ছন্দপতন ঘটে অধীরের বক্তব্যের সময় মঞ্চে প্রবেশ করেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সুপ্রিমো আব্বাস সিদ্দিকী। প্রবল উল্লাসে ফেটে পড়ে জনতা। তার জেরে কিছুক্ষণের জন্য বক্তব্য থামাতে বাধ্য হন অধীর। তিনি তার বক্তব্য একপ্রকার শেষ করে দিতে চাইছিলেন‌। সেইসময় বাম শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে অনুরোধ করে বক্তব্য চালিয়ে যেতে বলেন। এরপরে অধীর আরও কিছুক্ষণ তাঁর বক্তব্য রাখেন। এমনকি বক্তব্য শেষে তাকে বামেদের চিরকালীন স্লোগান ইনক্লাব জিন্দাবাদ বলতেও শোনা যায়। পরে আব্বাস সিদ্দিকি বক্তব্য রাখার সময় একবারের জন্যেও অধীরের নাম করেননি তিনি, বারবার সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের নাম করেছেন। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে ব্রিগেড ময়দান থেকে যখন হাতে হাত মিলিয়ে সংযুক্ত মোর্চা চলা কথা বলা হচ্ছে, সেখানে মঞ্চে আব্বাস ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে কি জোটের তাল কেটে গেল?

অন্যদিকে, অধীর তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে বলে “পেট্রোপণ্যের দাম লিটার পিছু মাত্র এক টাকা শুল্ক কমিয়েছে এই সরকার। আজকের মঞ্চে রয়েছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল। তিনি পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি কমিয়েছেন ১২ টাকা এবং ডিজেলের দাম কমিয়েছেন ৪ টাকা করে। এটা কি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করতে পারতেন না?” তিনি আরও বলেন, বিজেপি এবং তৃণমূল চাইছে কায়েমি স্বার্থ বজায় রাখতে। কিন্তু আজকের ভিড় বলছে, তৃণমূল-বিজেপি পারবে না। কথায় বলে সকাল দেখেই বোঝা যায় গোটা দিনটা কেমন যাবে। সেটা আজ প্রমাণ হয়ে গেল। ব্রিগেড সমাবেশে বিভিন্ন রঙের পতাকা দেখছি। বলা যায় নতুন পরিবর্তনের রামধনু। সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপিকে পরাস্ত করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *