রাজ্য

দলে ফিরে এসেও শেষমেশ গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেন জিতেন্দ্র তেওয়ারি।

সঞ্জয় সিং

প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

  • তৃণমূল দল তাদের বাহাদুর সেনাপতিদের দলে আটকে রাখতে কেন অক্ষম হচ্ছেন?
  • দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কি কারণ?
  • জিতেন্দ্র পদ্ম শিবিরে চলে যাওয়ায় আসানসোল ও পার্শ্ববর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলি কি ধরে রাখতে পারবে তৃণমূল?

মঙ্গলবার সকালে বজরংবলির পুজো সেরে সন্ধ্যা আরতির সময় হুগলীর বৈদ্যবাটির জণসভায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত থেকে পদ্মের পতাকা নিয়ে মুখে ‘জয় শ্রীরামের’ ধ্বনি দিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃনমূলের দাপুটে নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে। আরও একটি বাহাদুর সেনাপতিকে দলে আটকে রাখতে ডাহা ফেল হল তৃণমূল। বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বেজে যাওয়ার পরও এই চিত্র দেখল রাজ্য তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলার মানুষজন।

এর আগে দলের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এলাকার মানুষ ও দলের কর্মীরা তাকে সুবিধাবাদী বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। নিজের সিধান্তে ভুল হয়েছে বুঝতে পেরে তিনি নেত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ফের দলে ফিরে এসে তৃণমূল দলের হয়ে কাজ করা শুরু করেন। কিন্তু, একদা দাপুটে নেতাকে আসানসোল এবং তার নিজের বিধানসভা এলাকার দলীয় কর্মীরা আর সেই পুরানো সম্মান দিতে চাননি। ব্রাহ্মণপুত্র তেওয়ারি এই অসম্মান, মন থেকে মেনে নিতে পারছিলেন না এবং তা না মেনে নেওয়াই স্বাভাবিক। কারণ, যে অঞ্চলগুলি থেকে তাকে ‘রাজার’ মত সম্মান দেওয়া হত! দলে ফিরে ফের তাদের কাছে গেলে তাঁরা তার সাথে খারাপ ব্যাবহার শুরু করে। নেত্রী হয়তো বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদে আসীন করে দলের মুলস্রোতে আনার চেষ্টা শুরু করেছিলেন কিন্তু, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। তেওয়ারি এরই মধ্যে ফের বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং যারা তাকে আগে বিজেপি দলে নিতে বাধা দিয়েছিলেন তাদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন এবং বাধা দেওয়া নেতাদের মন গলাতে সক্ষম হন।

তেওয়ারিকে বিজেপি দলে না নেওয়ার জন্য সবথেকে বেশী যিনি বাধা দিয়েছিলেন সেই আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় মঙ্গলবার এক বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় জিতেন্দ্র তেওয়ারির বিজেপি দলে যোগদানকে স্বাগত জানান। এবং বাবুল বলেন, জিতেন্দ্র পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া চিঠি দিয়ে আসানসোল অঞ্চলে কেন্দ্রের উন্নয়ন প্রকল্পগুলি শুরু করতে না দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ ব্যাক্ত করেছেন। জিতেন্দ্রর মতে, সরকারি যে কোন প্রকল্প তা রাজ্য সরকারের হোক বা কেন্দ্র সরকারের, আসানসোল পৌরসভার অন্তর্গত মানুষেরা তার লাভ পাবে না কেন? জিতেন্দ্র এও সাংসদ বাবুলকে বলেন, “কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি শুরু করার ক্ষেত্রে আমি যে বাধার সৃষ্টি করেছিলাম তা যে ভুল হয়েছিলো তা আমি বুঝতে পেরেছি।” সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘জিতেন্দ্রর এই স্বিকারত্তি, আমার কথায় শিলমোহর দিলো। আমি বারবার বলেছিলাম রাজ্য সরকার কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি চালু করতে সহযোগিতা করছে না তা সত্য প্রমানিত হল।’ তিনি তার কথায় আরও সংযোজন করে বলেন, “আগে আসানসোল লোকসভা এলাকায় একা লড়েছি এবার জিতেন্দ্রকে সঙ্গে পেলাম, দুজনে একসাথে আসানসোল লোকসভার জনতাদের উন্নয়নের জন্য লড়ব।”     

ওয়াকিবহল মহলের মত, গোটা পশ্চিম বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক, ভৌগলিক, সাংগঠনিক, সাধারণ মানুষজন সবই তৃনমূলের জেলা সভাপতি থাকার সুবাদে খুব ভালো ভাবে চেনেন জিতেন্দ্র তেওয়ারি। গোটা জেলার চিত্র তার নখে-দর্পণে রয়েছে। ওয়াকিবহল মহলের মত এও যে গতবার তার বিজেপি দলে যাওয়ার বিষয়টি জনগণের কাছে অন্যরকম মনে হলেও এইবারে তার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণ, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। জেলার রাজনৈতিক পণ্ডিতরা চর্চা শুরু করে দিয়েছে, এবার দেখার পালা তৃণমূল কংগ্রেস তাদের আসনগুলি ধরে রাখতে পারবেন না বাবুল এবং জিতেন্দ্রে জোড়া আক্রমনে তা উড়ে গিয়ে বসবে পদ্মের শিবিরে।                     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *