রাজ্য

করোনার জের, প্রথম লকডাউনের পথে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা।

ডিজিটল ডেস্ক

কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্যে প্রথম লকডাউনের আওতায় কলকাতা সহ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পড়তে চলেছে। কেন্দ্র দেশ জুড়ে লকডাউনের বদলে দায় সেরেছে রাজ্যগুলির উপরেই। কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে স্থানিয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে জোন ধরে ধরে লকডাউনের পথে যেতে রাজ্যগুলিকে। লকডাউনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম লাগু করেছে কেন্দ্র। সেই নিয়মের আওতায় পড়লেই সেই এলাকাগুলি চিহ্নিত করে লকডাউনের পথে যেতে হবে বলে নির্দেশিকায় রয়েছে। কেন্দ্রে দেওয়া ২টি নিয়েমের প্রথমটি হল, ১ সপ্তাহের মধ্যে যদি করোনা পরীক্ষায় ১০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশী মানুষ সংক্রমিত হলে তাহলে কনটেনমেন্ট জোন লাগু করতে হবে সে এলাকা। দ্বিতীয়টি, যদি এলাকার হাসপাতালগুলিতে ৬০ শতাংশের বেশী রোগীরা অক্সিজন সাপোর্ট বা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকেন তাহলে সেই এলাকাকে কনটেনমেন্ট জোনের আওতায় রাখতে হবে। দুটির মধ্যে যে কোন একটি পূরণ হলেই সেই এলাকায় কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। গত কয়েকদিনে যেহারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা এর আওতায় পড়তে চলেছে। গত ২৪ ঘন্টায় শুধু কলকাতায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৭৭৯ জন। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ১৪০ জন। কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা ওই নিয়মের আওতায় পড়েছে। কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৮ এবং ১৫ জন। অন্যান্য জেলায় সংক্রমণের হারে বৃদ্ধি হয়েছে। হাওড়ায় ৮৮৯, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৯৮৬, বীরভূমে ৬৫৬, হুগলীতে ৭৫১ এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে ৭৪৫। রাজ্যের চিকিৎসকদের মতে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজনকে করোনা পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। গত ১৫ মার্চ নতুন করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ৫১৯ জন যা ২৫ এপ্রিল নতুন সংক্রমিত করোনার সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ছুঁই ছুঁই, প্রায় ৩১গুন। একমাস আগে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল রাজ্যে ৩ হাজার ৯৫০ জন তা এখন গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৮০০ জন। রাজ্যের চিকিৎসকদের পরামর্শ সামান্যতম উপসর্গ থাকলে টেস্ট করান। কেন্দ্র সরকার গোটা দেশে লকডাউনে যাবেন না তা একপ্রকার প্রধানমন্ত্রীর দেশের জন্য দেওয়া ভাষণ থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। বিষয়টা যে রাজ্য সরকারের অধীনে আসবে তা এই নির্দেশিকার পর আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *