জেলা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান

করোনায় মৃত্যু সত্তর উর্দ্ধ বৃদ্ধার, সচেতনতার প্রচারে কাঁকসা গ্রাম পঞ্চায়েত, তবুও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় বাজারে।

সুজিত ভট্টাচার্য, কাঁকসা

কাঁকসা ব্লক জুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। এলাকার মানুষকে সচেতন করতে কাঁকসা গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে কাঁকসার বিভিন্ন এলাকায় মাইকে প্রচার করা হয় বুধবার। অযথা বাইরে না বেরিয়ে এলাকার মানুষকে বাড়িতে থাকার আবেদন করা হয়। মুখে মাস্ক পরে বাড়ির বাইরে বেরোনোর কথা মাইকে প্রচার করা হয় পঞ্চায়েতের তরফ থেকে। এতো সবের পর বুধবার সকালে পানাগড় বাজারে দেখা গেল সেই একই উপচে পড়া ক্রেতাদের ভিড়। রাজ্য সরকার আংশিক লকডাউনের ঘোষণা করেছেন। বাজার খোলা ও বন্ধ করার নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে তা সত্বেও পানাগড় স্টেশন রোডের বাজার, পানাগড় সবজি বাজার সহ কাঁকসার বিভিন্ন প্রান্তে সকাল থেকেই খোলা সমস্ত দোকান ও বাজার। সামাজিক দূরত্ব না মেনেই প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার মাইকে প্রচার করা হলেও হুঁশ নেই এলাকাবাসীর। অসচেতনতার ছবি ধরা পড়লো পানাগড় বাজার ও কাঁকসায়। অন্যান্য দিন পানাগড় বাজার সহ প্রতিটি এলাকায় পুলিশের কড়া নজরদারি থাকলেও বুধবার পানাগড় সহ সমগ্র কাঁকসার প্রতিটি বাজারে পুলিশের নজরদারি ছিলো কম।

অন্য দিকে বুধবার কাঁকসা মাধবমাঠে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো সত্তর উর্দ্ধ এক বৃদ্ধার। জানা যায় গত কয়েকদিন ধরে ওই পরিবারের পাঁচ জনের মধ্যে মা ও ছেলে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। ছেলে সুস্থ হয়ে উঠলেও সত্তর উর্দ্ধ তাঁর মা জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। বাড়িতেই হোম আইসোলেশনে ছিলেন সত্তর উর্দ্ধ বৃদ্ধা এবং পরিবারের সদস্যরা সকলেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। মৃতদেহ সৎকারের জন্য আতঙ্কে এলাকার মানুষ কেউ এগিয়ে আসতে চায়নি। মহকুমা শাসকের কাছে মায়ের মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানায় মৃতার ছেলে। প্রশাসনের কাছে আবেদনের পর অবশেষে প্রশাসনের তরফ থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত বৃদ্ধার মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সৎকারের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *