জেলা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান

করোনা রোধে সচেতনতার উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাজারগুলিতে ১৪ দিন লাগাতার অভিযান চালাবে দুর্গাপুর পুর প্রশাসন।

নিজেস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর

রাজ্য জুড়ে তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরেও জাঁকিয়ে বসেছে মারণ ভাইরাস। আর এই মারণ ভাইরাসের থাবা থেকে বাঁচতে একমাত্র হাতিয়ার সচেতন থাকা এবং বিষেশজ্ঞদের পরামর্শ মেনে মাস্ক স্যানিটাইজার ব্যবহার করা। কিন্তু, মহামারী থাবা বসালেও আমজনতা এখনও সেইভাবে সজাগ নন। যদিও রাজ্য সরকার বিভিন্ন রকম নির্দেশিকা জারি করে গণদেবতাদের সচেতন থাকার বার্তা দিচ্ছেন, কিন্তু সেই চেনা চিত্রের বদল হচ্ছে না। প্রায় সময়ই মুখের মাস্ক নেমে আসছে থুঁতনিতে। এমনকি বাজার করতে এসেও দূরত্ব বিধি শিকেয় উঠছে। এমতাবস্থায় করোনার সংক্রমণ রোধে বাজারগুলিতে লাগাতার অভিযান শুরু করল দুর্গাপুরের পুর প্রশাসন। রাজ্য সরকারের নির্দেশে সমস্ত পুরসভা, ব্লক এবং জেলা প্রশাসন তৎপরতার সঙ্গে এই কাজ করে চলেছে। বিলি করা হচ্ছে মাস্ক, প্রত্যেক মানুষকে দেওয়া হচ্ছে সচেতনতার বার্তা। শুধু তাই নয়, মহামারী পরিস্থিতিতে কালোবাজারি রুখতে বিভিন্ন বাজারে বাজারে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। সেই মোতাবেক শনিবার সকাল থেকে দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের ‘ডেইলি মার্কেট’ সহ একাধিক বাজার এলাকায় অভিযান চালান দুর্গাপুর নগর নিগমের ডেপুটি মেয়র অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় সহ নগর নিগমের অন্যান্য আধিকারিকরা।

দুর্গাপুর নগর নিগমের ডেপুটি মেয়র অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় জানান, করোনার গ্রাফ যেভাবে বেড়েই চলেছে, ফলে যেসব জায়গা থেকে সংক্রমণের বেশি আশঙ্কা রয়েছে সেইসব জায়গায় পুর নিগম কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী অভিযান চালানো হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান হল বাজার এলাকাগুলি। আগামী ১৪ দিন ধরে এখানকার ডেইলি মার্কেট সহ বাজারের বিভিন্ন এলাকাগুলিতে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান। ডেপুটি মেয়র আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এইভাবে দিন প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের হুঁশ ফিরছে না। কেউ ঠিক ভাবে মাস্ক পড়ছেন না আবার কেউ-কেউ মাস্ক পড়তে বেমালুম ভুলেই যাচ্ছেন। তারপর গাঁ ঘেঁষাঘেঁষি করে জিনিসপত্র কেনার হিড়িক, একে অপরকে স্পর্শ করা, স্যানিটাইজার নেই। এই সমস্ত মানুষদের সচেতন করতেই এই অভিযান।

তবে, আক্ষেপ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ডেপুটি মেয়র আনন্দের সঙ্গে এদিন এটাও জানালেন যে, বিগত দিনের তুলনায় এদিন মানুষদের অনেক বেশি সচেতনতার রূপ তারা দেখেছেন। হাতে গোনা ৩-৪ জন এদিন মাস্ক না পড়লেও বেশির ভাগ মানুষই মাস্ক পড়েছেন। কিন্তু, তারপরেও এদিনের এই অভিযানে সমস্ত ব্যবসায়ীদের একদিকে যেমন সতর্ক করা হয়, অন্য দিকে তেমনই ক্রেতাদেরও সাবধানতা অবলম্বন করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি তিনি এও জানান, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী বাজার খোলা রাখার যে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা মাইকিং করে জনগণকে আরও একবার জানিয়ে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গেই সংবাদ মাধ্যমের কাছে ডেপুটি মেয়র অনিন্দিতা মুখার্জী অনুরোধ করেন, যেন তাঁদের পক্ষ থেকেও জনসাধারণদের সচেতন করা হয়। তাঁর বার্তা, সকলে মিলে একত্রে কাজ না করলে, করোনা মহামারীর কবল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *