জেলা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান

আন্তঃরাজ্য ওষুধ পাচারকারী ধরা পড়ল পুলিশের জালে, বাজেয়াপ্ত ওষুধ গ্রেপ্তার ৫।

সংবাদদাতা, আসানসোল

পুলিশের জালে বরাকর হনুমান চড়ায়ের এক বাড়িতে আন্তঃরাজ্য ওষুধ পাচারকারীর একটি দল ধরা পড়ল। অনেকদিন ধরেই চলত এই অবৈধ ওষুধের ব্যাবসা বলে খবর ছিল পুলিশের কাছে। সোমবার অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার সহ প্রচুর পরিমান ওষুধ বাজেয়াপ্ত করে কুলটি থানার অন্তর্গত বরাকর ফাঁড়ির পুলিশ। এই বিষয়ে মঙ্গলবার কুলটি থানায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানান এসিপি ওমর আলী মোল্লা। তিনি জানান, গত সোমবার বিকেলে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এই অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের কাছে খবর ছিল কৃষ্ণা এন্টারপ্রাইজ নামে এক সংস্থা বরাকর হনুমান চড়ায়ের একটি বাড়িতে বেশকিছু দিন ধরে অবৈধ ভাবে ওষুধ তৈরি করে তা বিক্রি করছিলো। তৈরি করা এই ওষুধগুলো তাঁরা মূলত বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশে বিক্রি করত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। মূল ২ অভিযুক্ত সহ ৩ কর্মচারী মোট ৫ জনকে এই কাণ্ডে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের কাছ থেকে কোন মেডিক্যাল বা ড্রাগ লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। এখানে সিরাপ, ডেসেন্ট্রি, ব্যাথার ওষুধ এবং মধু তৈরি করা হত। মধু তৈরির জন্য এফএসএসএআই সার্টিফিকেট তাদের কাছে পাওয়া যায়নি। সম্পূর্ণটাই বেআইনি ভাবে তৈরি এবং বিক্রি করা হচ্ছিল। প্রায় ডেড় লক্ষ টাকার ওষুধ, সিরাপ এবং মধু বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ বলে জানান এসিপি ওমর আলী মোল্লা। মঙ্গলবার ৫ অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে আসানসোল আদালতে তোলা হয়। আদালত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন। এসিপিকে পরের তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এই ওষুধগুলি তাঁরা কোথায় বিক্রি করতে সেই সম্পর্কে খোঁজ নেবে পুলিশ। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই ওষুধগুলি তাঁরা বিক্রি করতো মূলত অত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে, যেখানে সচেতনতা কম সেই অঞ্চলগুলি এদের টার্গেটে থাকাত। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে এই ওষুধগুলি কোন দোকানদারেরা কিনতেন, এরপর তাদের চিহ্নিত করার কাজ করবে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *