জেলা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান

কুমারডিহিতে ডায়রিয়ার আক্রান্ত ২০ জন।

সংবাদদাতা, পাণ্ডবেশ্বর

পান্ডবেশ্বর বিধানসভার নবগ্রাম পঞ্চায়েতের কুমারডিহির গ্রামের নিচু বাগদিপাড়ায় গত তিন দিন ধরে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে বলে জানা যায়। তিন দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় কুড়ি জন শিশু ও বয়স্করা। বর্ষা পড়তে না পড়তেই এভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে সাত জন খাঁদরা উখড়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কিছু ব্যক্তিকে চিকিত্সার পর ছেড়েও দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে যাদের অবস্থার একটু অবনতি হয়েছিল। তাদের মধ্যে রয়েছে একজন শিশুও। ঘটনার খবর শুনতেই পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিধায়ক স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সঙ্গে সঙ্গে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করেন এবং এলাকার মানুষের জন্য ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করার কথা বলেন। বিধায়ক তাঁর দলের কর্মীদের নির্দেশ দেন, স্থানীয় মানুষদের জেন কোনও মতেই কোনো সমস্যা না হয়। কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হলে সঙ্গে সঙ্গে দলের তরফ থেকে তাদের গাড়ি করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসানো হয়েছে মেডিক্যাল ক্যাম্প। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন এলাকায় রয়েছে সার্বজনীন একটা কুয়ো। যে কুয়োর ওপর গোটা পাড়ার লোক নির্ভরশীল। মনে করা হচ্ছে সেই জলে কোনোরকম বিষক্রিয়ার ফলেই এই ডায়রিয়ার ঘটনা। যদিও স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এখনো পরিষ্কার বলা হয়নি যে ঠিক কী কারণে এই ডায়রিয়ার প্রকোপ এলাকায়। গত দুই দিন যেভাবে ডায়রিয়ার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল সোমবার তার প্রকোপ একটু হলেও কম হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রিয়া বাগদি জানান, পঞ্চায়েতের তরফ থেকে তাদের এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের লোকেরা কুয়োর জল ব্যবহারের জন্য নিষেধ করেছেন। আপাতত সেই কুয়োর জল তোলার কাজ চলছে। পঞ্চায়েত সদস্য অতনু ভট্টাচার্য জানান, তারা সর্বোক্ষণ এই পাড়ার দিকে নজর রেখেছেন এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত সব সময় এই মানুষগুলো পাশে রয়েছে।

অন্যদিকে, ডায়রিয়া প্রকোপের মধ্যেই সোমবার কুমারডিহি হাটে করোনার বিধি নিষেধকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মানুষকে বেপরোয়া ভাবে হাটে ঘুরতে দেখা গেল।

নেই মুখে মাস্ক মানছেন না সামাজিক দূরত্ব বিধি। এলাকায় সবজি বিক্রেতারা ওই হাটে তাঁদের ব্যবসা করতে বসেন। কিছুদিন আগে পর্যন্ত যেসব মানুষদের করোনা ভীতি ছিল। যারা মানছিলেন সামাজিক দূরত্ব বিধি। পরছিলেন মুখে মাস্ক। হঠাৎ তাদের করোনা ভিতি দূর হওয়ার দৃশ্য দেখা গেল। বিক্রেতারা যেমন মাস্ক ছাড়াই তাদের ব্যবসায় ব্যস্ত, তেমনই অধিকাংশ ক্রেতাদেরও মুখে দেখা মিলল না মাস্ক আর সামাজিক দূরত্বের তো কোন বালাই নেই। বিক্রেতারা কেউ কেউ বলছেন কাজে ব্যাস্ত তাই মাস্ক পরার অবসর নেই। আবার অনেক বিক্রেতা বলছেন মাস্ক সঙ্গে নিয়ে আসতে ভুলে গিয়েছি। কিছু ক্রেতাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তাঁরা অবলীলায় দাঁত বের করে হেঁসে চলে গেলেন। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার বিধি নিষেধ ঘোষণা করেছেন। বেঁধে দিয়েছেন দোকানপাট খোলার সময়সীমা। কিন্তু, কে শোনে কার কথা সবাই বেপরোয়া। একদিকে ডায়রিয়ার প্রকোপ অন্যদিকে করোনা সংক্রমণ নিয়ে বেপরোয়া কুমারডিহি এলাকার সাধারণ মানুষ। পঞ্চায়েত সদস্যরা কোনদিকে নজর রাখবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *