জেলা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান

বোনকে খুনের অভিযোগ দাদার বিরুদ্ধে ঘটনা দুর্গাপুরের স্টীল পার্কের।

নিজেস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর

পারিবারিক অশান্তির জেরে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে বোনকে খুনের অভিযোগ উঠল দাদার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দুর্গাপুরের নিউ টাউনশীপ থানার অধীন স্টিল পার্কে। ঘটনার জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় মৃতের নাম নুপুর চ্যাটার্জী(৪৬)। অভিযুক্ত দাদার নাম মলয় চ্যাটার্জী। তিনি দুর্গাপুরের বেসরকারি কলেজে ল্যাব অ্যাসিসটেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। জানা যায়, মৃত নুপুর দেবী বিবাহিতা এবং তিনি হাওড়ার বাসিন্দা। কিছুদিন আগেই ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। তারপর থেকে এখানেই বাস করছিলেন তিনি। এও জানা যায়, নিত্যদিন পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকত এবং দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছিল দাদা ও বোনের। এই নিয়ে পারিবারিক পরিবেশ খুব একটা সুস্থ ছিল না। প্রতিদিনের অশান্তি সহ্য করতে না পেরেই মলয় বাবু এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে তার পরিবার সূত্রে জানা যায়। অভিযুক্ত মলয় চ্যাটার্জীর স্ত্রী মৌমিতা জানান, তাদের বিয়ের পর থেকেই পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। তাদের বিয়ে তার ননদ এবং পরিবারের লোকজন মেনে নিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাদের দুজনের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ, ননদ নুপুর চাটার্জী তাকেও সহ্য করতে পারতেন না। কারণে অকারণে তাকে বকাবকি করতেন।

দীর্ঘদিন ধরে এই বিবাদ চলছিলই, সম্প্রতি নির্বাচনের আগে শ্বশুরবাড়ি থেকে দাদার বাড়ি ঘুরতে আসেন নুপুর দেবী। আসার পর থেকেই সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া-অশান্তি লেগেই থাকতো। মৌমিতা দেবী এও জানান, ভবিষ্যতে নুপুর দেবীর এখানেই এসে থাকার কথা বলছিলেন। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে এবং রবিবারও কিছু কথা কাটাকাটি হয় দাদা ও বোনের। এতেই মেজাজ হারান দাদা মলয় চ্যাটার্জী এবং রাগে বোনের মাথায় ইট দিয়ে সজোরে আঘাত করেন এবং একের পর এক আঘাতে বোনের মাথা থেঁতলে দেন, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নুপুর দেবীর। স্ত্রী মৌমিতা দেবী এই দৃশ্য দেখে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের খবর দেন। খবর জানাজানি হতেই প্রতিবেশীরাও ভিড় জমান তাদের বাড়িতে। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে অভিযুক্ত মলয় চ্যাটার্জীকে গ্রেপ্তার করে। তবে দিনে-দুপুরে পারিবারিক অশান্তির জেরে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ায় বাকরুদ্ধ সকলেই। পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *